শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার আজ বলেছেন, সারা দেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান শূন্য পদ পূরণে ৬৭ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
সচিবালয়ে আজ বিআইএসএসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার শূন্য পদে ৬৭ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত রেখে যাবে। এ বিষয়ে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হচ্ছে।”
শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং বেকারত্ব নিরসন অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। সাম্প্রতিক এই সিদ্ধান্ত সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নে একটি বড় পদক্ষেপ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক শূন্য পদ রয়েছে। এসব পদে সর্বাধিক যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষকে (এনটিআরসিএ) প্রয়োজনীয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এক দিনের মধ্যেই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
ড. আবরার শিক্ষাদানে আন্তরিক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ শিক্ষিত বেকার তরুণদের নিজ নিজ শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী আবেদন করার আহ্বান জানান।
এই উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকের শিক্ষকরা আগামী দিনের শিক্ষাব্যবস্থা গঠন ও সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। “আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে অবশ্যই যোগ্য ও দক্ষ ব্যক্তিদের শিক্ষকতায় নিয়ে আসতে হবে,” যোগ করেন তিনি।
শিক্ষা উপদেষ্টা জানান, গত মাসে সারা দেশের শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগের অনুমোদন চেয়ে এনটিআরসিএ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলে তার নেতৃত্বে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব বৈঠকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
“আমাদের নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট—শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিটি শূন্য পদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পূরণ করতে হবে,” বলেন তিনি।
ড. আবরার জানান, শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করাই অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সেই ধারাবাহিকতায় ৬৭ হাজারের বেশি শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আগামীকালই একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলেও জানান তিনি।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, মোট ৬৬ হাজার ৯৬২টি পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ২৯ হাজার ৩২৫টি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৮৩৩টি এবং মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে ৩৬ হাজার ৮০৪টি পদ রয়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষাখাতে গুণগত মান ও গতিশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। “আমরা বিশ্বাস করি, স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হবে,” বলেন তিনি।
শিক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, এই বৃহৎ নিয়োগ কার্যক্রম বেকারত্ব হ্রাসের পাশাপাশি তরুণ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাখাতে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে, যা দেশের সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।







