জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে শনিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।
বিকেল সাড়ে ৩টা ৫০ মিনিটে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জোহরের নামাজের পর অনুষ্ঠিত জানাজায় লাখো মানুষ অংশ নেন। রাষ্ট্রীয় পতাকায় মোড়ানো হাদির কফিন বিকেল ৩টা ১৮ মিনিটে কবরস্থানে নেওয়া হয়। দাফন শেষে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও ফাতেহা পাঠ করা হয়।
পরিবারের অনুরোধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের পাশে তাঁকে দাফন করা হয়।
এর আগে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টাবৃন্দ, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সমাজের সর্বস্তরের বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
হাদির বড় ভাই মাওলানা ড. আবু বকর সিদ্দিকী জানাজা পরিচালনা করেন। এ সময় অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বক্তব্য রাখেন। ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা এ এফ এম খালিদ হোসেন হাদির জীবনীর বিবরণ পাঠ করেন। ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরও বক্তব্য দেন।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে শোকের পাশাপাশি প্রতিরোধের দৃশ্য দেখা যায়। শোকাহত মানুষ ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং হাদি হত্যার বিচার দাবি করেন। অনেকেই তাঁর অকাল মৃত্যুতে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চলাচলের সময় গুলিবিদ্ধ হন শরীফ ওসমান হাদি। প্রথমে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে বৃহস্পতিবার রাতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার প্রত্যাশী হাদি ‘ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামের এক অমর সৈনিক’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
সিঙ্গাপুর থেকে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং শুক্রবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কফিনটি হ্যাঙ্গার গেট নম্বর ৮ দিয়ে নেওয়া হয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের মর্গে রাখা হয়, যেখানে তা রাতভর সংরক্ষিত ছিল।
অন্তর্বর্তী সরকার শনিবার রাষ্ট্রীয় শোক দিবস ঘোষণা করে। জানাজা ও দাফন ঘিরে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সংসদ ভবন এলাকায় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম ও বডি–ওর্ন ক্যামেরাসহ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ২০ প্লাটুন মোতায়েন করা হয়।
এ ছাড়া ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এক হাজার বডি–ওর্ন ক্যামেরাসহ বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করে। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকায় ড্রোন ও ব্যাগ বহনে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।







