Edit Content

ভূমিকম্পে আতঙ্ক নয়, সতর্কতা—অগ্নিনির্বাপণ ও সিভিল ডিফেন্সের নিরাপত্তা নির্দেশনা প্রকাশ

PHOTO: Internet
Share the News

সাম্প্রতিক একাধিক ভূমিকম্প—যার মধ্যে ২১ নভেম্বর ২০২৫ সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে সারা দেশে অনুভূত ৫.৭ মাত্রার কম্পনও রয়েছে—এর পরিপ্রেক্ষিতে অগ্নিনির্বাপণ ও সিভিল ডিফেন্স (FSCD) জনসাধারণকে শান্ত থাকার এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে।

আজ এক নিরাপত্তা পরামর্শে ফায়ার সার্ভিস জানায়, সচেতনতা ও প্রস্তুতি থাকলে ভূমিকম্পের প্রভাব অনেকাংশে কমানো সম্ভব। জরুরি সহায়তার জন্য নাগরিকদের ১০২ নম্বরে যোগাযোগ করতে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ভূমিকম্প শুরু হলে “শান্ত থাকতে হবে এবং আতঙ্ক এড়িয়ে চলতে হবে।” ভবনের নিচতলায় থাকলে দ্রুত বের হয়ে খোলা জায়গায় যেতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বহুতল ভবনে থাকলে ড্রপ–কভার–হোল্ড পদ্ধতি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে ফায়ার সার্ভিস—মাটিতে নেমে পড়া, মজবুত টেবিল বা ডেস্কের নিচে আশ্রয় নেওয়া এবং শক্ত করে ধরে রাখা। আশ্রয় না পেলে কলামের পাশে বা বিমের নিচে অবস্থান করতে এবং মাথা রক্ষায় বালিশ বা কুশন ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

ভূমিকম্পের সময় লিফট ব্যবহার না করার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে। কম্পন থামলে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগ দ্রুত বন্ধ করতে বলা হয়েছে। বারান্দা, জানালা, বুকশেলফ, আলমারি, কাঠের ফার্নিচার বা ঝুলন্ত ভারী জিনিসপত্র থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া টর্চলাইট, হেলমেট, জরুরি ওষুধ ও হুইসেল হাতের কাছে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যারা বাইরে থাকবেন, তাঁদের খোলা জায়গায় যেতে এবং গাছ, উঁচু ভবন ও বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। গাড়ির ভেতরে থাকলে চালকদের নিরাপদ খোলা স্থানে—ওভারব্রিজ, ফ্লাইওভার, গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে—গাড়ি থামিয়ে কম্পন থামা পর্যন্ত ভেতরেই থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস আরও সতর্ক করে জানিয়েছে, মূল ভূমিকম্পের পর আফটারশক হতে পারে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, সেতু এবং দুর্বল অবকাঠামো থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ এগুলো পরবর্তী কম্পনে ধসে পড়তে পারে।