কয়েক মাসের হুমকি ও চাপের কৌশলের পর যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় বোমা হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। পরে তাকে আটক করে বিচারের জন্য নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় কারাকাসে মার্কিন বাহিনীর হাতে “আটক” হওয়ার পর মাদুরো একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পৌঁছান। দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যে এই অভিযান চালানো হয়।
ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ ঘটনাটিকে “অপহরণ” আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, নিকোলাস মাদুরোই ভেনেজুয়েলার “একমাত্র বৈধ প্রেসিডেন্ট” এবং যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এখন থেকে ওয়াশিংটন ভেনেজুয়েলা “চালাবে” এবং দেশটির বিপুল তেলসম্পদ ব্যবহার করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে দেশটি শাসন করবে বা তেলসম্পদ ব্যবস্থাপনা করবে—সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
এ ঘটনার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ একটি “বিপজ্জনক নজির” স্থাপন করেছে এবং এর গুরুতর পরিণতি হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
দশকের মধ্যে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত এই ঘটনা আঞ্চলিক অস্থিরতা ও বৈশ্বিক কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।







