ছয় মাসে মোংলা বন্দরে রেকর্ড ১৭,৩৮৭ কনটেইনার হ্যান্ডলিং | বাসস

PHOTO: BSS
Share the News

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দর চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) প্রথম ছয় মাসে রেকর্ড ১৭,৩৮৭ টিইইউ (TEUs) কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। এ সময়ে ২৮টি কনটেইনারবাহী জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে।

বন্দর সূত্র জানায়, জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে রেকর্ড ৪৪০টি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ মোংলা বন্দরে নোঙর করেছে, যা বন্দরটির রাজস্ব আয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।

এই ছয় মাসে ১৫টি জাহাজে করে মোট ৫,২৪৪টি আমদানিকৃত গাড়ি বন্দরে এসেছে। পাশাপাশি, এ সময়ে ৬৩,২৭,৮৭০ টন পণ্য আমদানি এবং ৪২,৬৭১ টন পণ্য রপ্তানি হয়েছে মোংলা বন্দর দিয়ে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের (এমপিএ) উপসচিব মো. মাকরুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে বন্দরে ১ কোটি ৩ লাখ ২৪ হাজার ৬১১ টন আমদানিকৃত পণ্য এবং ৮৭ হাজার ৮০০ টন রপ্তানিকৃত পণ্য হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। একই সময়ে ২৬টি জাহাজে করে ১১ হাজার ৫৭৯টি রিকন্ডিশন্ড যানবাহন আমদানি করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বন্দরের মাধ্যমে ৬৩ লাখ ৭০ হাজার টনের বেশি পণ্য পরিবহন করা হয়েছে। আর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট ১ কোটি ৪১ লাখ টন পণ্য হ্যান্ডলিং করা হয়।

মাকরুজ্জামান জানান, জাহাজ আকর্ষণে বন্দর কর্তৃপক্ষের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে মোংলা বন্দরে জাহাজ আগমনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

তিনি বলেন, খাদ্যশস্য, সার, সিমেন্টের কাঁচামাল, ক্লিঙ্কার, কয়লা, তেল, পাথর, যানবাহন, যন্ত্রপাতি, চাল, গম, ভুট্টা, তেলবীজ ও এলপিজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতে মোংলা বন্দর জাতীয় চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

একই সঙ্গে চিংড়ি, সাদা মাছ, শুঁটকি, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত খাদ্য, কাঁকড়া, মাটির টাইলস, সিল্ক কাপড়, তৈরি পোশাক ও সাধারণ পণ্য রপ্তানিতেও বন্দরটি সহায়তা করছে।

তিনি বলেন, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে মোংলা বন্দর একটি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে এবং লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ কোটি ৪১ লাখ টন পণ্য হ্যান্ডলিং করে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ রেকর্ড ৩৪৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা রাজস্ব আয় করে। এ সময়ে নিট মুনাফা দাঁড়ায় ৬২ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ২০ কোটি ৫০ লাখ টাকার তুলনায় ২০৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি।

বন্দর সূত্র জানায়, মোংলা-ঘাসিয়াখালী চ্যানেলসহ বিভিন্ন নদীপথে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনার ফলে নাব্যতা বেড়েছে। এর ফলে বড় জাহাজ সরাসরি বন্দর জেটিতে ভিড়তে পারছে এবং ভবিষ্যতে জাহাজ চলাচল আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কনটেইনার হ্যান্ডলিং, পণ্য পরিবহন ও জাহাজ আগমনের ক্ষেত্রে মোংলা বন্দর উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গত বছর একাধিকবার মোংলা বন্দর পরিদর্শন করেন এবং এর উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে দিকনির্দেশনা দেন।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী বন্দর পরিচালনা নির্বিঘ্ন রাখতে শিপিং এজেন্ট, সিএন্ডএফ এজেন্ট, স্টিভেডোরসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে নিয়মিত সভা করছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। জাহাজ আগমন ও বাণিজ্য কার্যক্রম আরও বাড়াতে এমপিএ একটি অভ্যন্তরীণ ব্যবসা উন্নয়ন স্থায়ী কমিটিও গঠন করেছে, যার ইতোমধ্যে ইতিবাচক ফল পাওয়া যাচ্ছে।