উপকূলীয় এলাকায় পানি নিরাপত্তাহীনতা

PHOTO: Internet
Share the News

Mrinal K. Sarkar

পানি নিরাপত্তা বর্তমানে একটি বহুল আলোচ্য বিষয়। ভ‚-পৃষ্ঠের চার ভাগের তিন ভাগ (৭০%) পানি দ্বারা পরিপূর্ণ থাকলেও বর্তমান বিশে^ও প্রায় ৪০% মানুষ কোন না কোনভাবে পানি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে এবং ভবিষ্যতে এর মাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে। পানি ছাড়া জীবের অবস্থান একবারে বিরল। ধরুন আপনি অফিসের একটি চিঠি পাইপ করে প্রিন্ট দিলেন, আপনার ব্যবহৃত পেপারটি A4 হলে আপনি পরোক্ষভাবে প্রায় ১০ লিটার পানি ব্যবহার করলেন যা মাত্র একটি A4 কাগজ তৈরীতে ব্যবহৃত হয়েছে। মানব দেহের প্রায় ৫০-৭৫% হলো পানি। সুতরাং পানি হলো জীবন-জীবিকার চালিকা শক্তি ও সকল উন্নয়নের অন্যতম প্রধান উপাদান। একজন মানুষ শুধু পানি খেয়ে প্রায় ৪০ দিন বাঁচতে পারে, পানি ছাড়া মানুষ ৫দিন পর্যন্ত বাঁচতে পারেনা। তাই, পানি হলো সকল জীবের উৎস এবং পানির অপর নাম জীবন। পানির নিরাপত্তা ও এর সহিত সংশ্লিষ্ট বিপদাপন্নতা স্থান কাল পাত্র ভেদে ভিন্নতর। একজন গৃহিণীর কাছে পানি নিরাপত্তা বলতে বাড়িতে ব্যবহৃত পানির যথাযথ যোগান ও এর সঠিক গুণগত মান বোঝায়। অন্যদিকে, একজন কৃষকের কাছে পানি নিরাপত্তা বলতে, কৃষক ফসল ফলাতে যতটুকু পানি দারকা তার সঠিক যোগান ও গুণগত মানকে বোঝায়। নগর জীবনে পানি সংকটময় মুহূর্তে একটি বহুতল ভবনের নীচ তলার বাসিন্দার কাছে পানি রিাপত্তাহীনতা বা বিপদাপন্নতার মাত্রা একজন ১০ তলার উপরে বসবাসকারী বাসিন্দার থেকে ভিন্নতর। সুতরাং পানি নিরাপত্তা বলতে কোন নির্দিষ্ট স্থানে, নির্দিষ্ট সময়ে বসবাসরত মানুষের খাবার পানি, স্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং সর্বোপরি পরিবেশ ভারসাম্য রক্ষার্থে যতটুকু মান-সম্মত পানির প্রয়োজন তার সঠিক যোগানকে বোঝায়। বর্তমানে পানি সম্পর্কিত আপদ এবং বিপদ গুলো পানি নিরাপত্তা বিশ্লেষণে নুতুন মোকবিলা করা হলেও. স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পানির নিাপত্তাহীনতার বিষয়টি তে গুরুত্ব পায়না । আবার কখনও কখনও রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন নীতিমালায় পানি নিরাপত্তা প্রধান বিবেচ্য বিষয় হলেও, দেশের আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিষয়টি প্রায়ই উপেক্ষিত হয়ে থাকে।

ফলে স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পানির সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বর্ধিত জনসংখ্যার জন্য খাদ্য নিরাপত্তা আর্থ-সামািিজক উন্নয়ন (নগরায়ন ও খাদ্যাভাসের পরিবর্তন), ইত্যাদি কারণে পানি ব্যবহার (প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ব্যবহারের) মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলবাযুর পরিবর্তন ও মনুষ্য সৃষ্ট দুষণ মাত্রা আমাদের পানি সম্পদকে প্রতিনিয়ত বর্জ্য পানিতে পরিণত করছে। সুতরাং ব্যক্তি পর্যায়ে পানি নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি উপলদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। এই ধারণা পত্রটি মূলত সচেতনা মূলক। ধারণা পত্রটি প্রস্তুত করতে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থা কর্তক বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য সম্ভার ব্যবহার করা হয়েছে। আশা করি এটি বিভিন্ন পর্যায়ে পাঠকের পানি সচেতনতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।


প্রকৃত পক্ষে সমুদ্রের পানিই হলো আমাদেও সকল পানির একমাত্র উৎস। সমুদ্রের পানি পানিচক্রের (Hydroliogic Cycle) মাধ্যমে প্রথমে জলীয়বাষ্প হয়ে বায়ুমন্ডলে, অতপর বায়ুমন্ডল হতে বৃষ্টি আকাওে পারি ভূ-পৃষ্ট হয়ে ভূ-গর্ভে প্রবেশ করে। পরিশেষে আমাদের ভূ-পৃষ্ঠে ও ভূ-গর্ভস্থা পানি বিভিন্ন প্রত্রিয়ার মাঝে সমুদ্রে গিয়ে পুনরায় একত্রিত হয়ে একটি পূর্ণ পানি চক্র সম্পূর্ণ করে। UNDE- (United Nations Environmental Programme) এর হিসাব অনুযায়ি, পৃথিবীর মোট পানির পরিমাণ প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ঘন কিলোমিটার। যার মধ্যে লবণাক্ত পানি ৯৭.৫% এবং মিঠা পানি ২.৫% (৩৫ মিলিয়ন ঘন কিলোমিটার)। কিন্তু সীমাবদ্ধতা হলো পৃথিবীর মাত্র ২.৫% মিঠা পানির মধ্যে ৭০% পানিই হিমবাহ বা বরফ হিসাবে পাহাড়ী অ্ঞল, এন্টারটিকা ও আরটিক অঞ্চলে বিদ্যমানম যা মানুষের ব্যবহার উপযোগী নয়, এবং বাকী ৩০% মিঠা পানি ভূ-গর্ভস্থ পানি, নদ নদীর পানি, মাটিস্থ আর্দ্রতা ও বায়ুমন্ডলে অবস্থান করে। শতকরা হিসেবে পৃথিবীতে ভূ-উপরিস্থ মিঠা পানির মোট পরিমাণ প্রঅয় মাত্র ০.৩% বা প্রায় ১০৫০০০ ঘণ কিলোমিটার। বায়ুম্ডলে পানির পরিমাণ ১৩,০০০ ঘন কিলোমিটার (World Water Assessment Programme)। সুতরাং গুণগত মান ও পরিমাণ বিচাওে পৃথিবীতে ব্যবাহার উপযোগী পানির পরিমান পৃতিবী ও সমস্থা পানির ১%-এর ও কম। বাংলাদেশে মিঠা পানির উৎস তিনটি: ক) আন্তর্জাতিক নদীসমুহ (৭৪%), খ) বৃষ্টির পানি (২$%) এবং গ) ভ‚-গর্ভস্থ পানি (২%)। আন্তর্জাতিক নদী সমুহের মধ্যে পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা তিনটি অন্যতম বড় নদী, যার বেসিন আয়তন প্রায় ১.৭২ মিলিয়ন কিলোমিটার ( পদ্মা ১০৮৭০০০ বর্গকিলোমিটার, ব্রহ্মপুত্র/যমুনা ৫৫৩০০০ বর্গ কিলোমিটার এবং মেঘনা ৮২০০০ বর্গ কিলোমিটার)। আমাদের আন্তর্জতিক নদী সমুহের মাত্র ৭% বেসিন এলাকা বাংলাদেশের সীমানায় অবস্থিত। বৃষ্টির পানি আমাদের একটি অন্যতম প্রধান উৎস হলেও কৃষি কাজ ছাড়া অন্যান্য ক্ষেত্রে এই পানি তেমন ব্যবহার হয়না। দক্ষিণ অঞ্চলে অতিরিক্ত পানি সংকটের কারণে বর্তমানে প্রায় ২৬% মানুষ বৃষ্টির পানি ব্যবহার করে।

Mrinal K. Sarkar is a development professional having more than 18 years of experience performing in the field of climate change adaptation, locally led adaptation with effective engagement of youth. Besides, experience in the field of Water, Sanitation, and Hygiene (WASH) for urban settlement areas along with entrepreneurship development.